ফ্রিটাউন সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করল আইসিআইসি
সিয়েরা লিওনের রাজধানী ফ্রিটাউনে ২০২৬ সালের ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে তথ্য কমিশনারদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের (আইসিআইসি) ১৭তম আসর। আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসকে ঘিরে আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিজিটাল যুগে তথ্যের যথার্থতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা’। এতে প্রায় ৪১টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল আইসিআইসি ও ইউনেসকোর মধ্যে নবায়নকৃত সমঝোতা স্মারক সই। এর মধ্য দিয়ে সবার তথ্যে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং তথ্যের যথার্থতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদারে দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ভিত্তি আরও দৃঢ় হলো।
বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) আইসিআইসির একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা। সংগঠনটি আইসিআইসির ইনফরমেশন ইন্টেগ্রিটি ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সম্মেলনের প্রথম দিন আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন ছিল আইসিআইসির উন্মুক্ত অধিবেশন। তৃতীয় ও শেষ দিনে আইসিআইসি সদস্যদের রুদ্ধদ্বার অধিবেশনের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়। উন্মুক্ত অধিবেশনগুলোয় একাধিক পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ও সমান্তরাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আইসিআইসির সভাপতি হিসেবে তথ্য ও উপাত্ত সুরক্ষা কমিশনার বেসনিক দারভিশি নাগরিকের জানার অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সঙ্গে ফ্রিটাউনের প্রতীকী তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার শুরু হয় জানার সুযোগ থেকে। তথ্যে প্রবেশাধিকার না থাকলে একজন নাগরিক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন হতে পারেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বাদ পড়ে যান।’
সম্মেলনে আয়োজক দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সিয়েরা লিওনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহামেদ জুলদেহ জালোহ, তথ্য ও নাগরিক শিক্ষামন্ত্রী চেরনর বাহ এবং কমিশনার ইব্রাহিম সিয়াগা শ।
সম্মেলনে স্বচ্ছতা, স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ, তথ্যবিশৃঙ্খলা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নথি ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক শাসন এগিয়ে নিতে তথ্যে প্রবেশাধিকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন অধিবেশনে স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ, সময়মতো সরকারি তথ্য প্রকাশ, উন্মুক্ত সরকারব্যবস্থা, গণমাধ্যম সাক্ষরতা এবং নারী, তরুণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমানভাবে তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে আইসিআইসি সদস্যরা নেটওয়ার্কের অগ্রাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক প্রতিবেদন উপস্থাপকেরা নিজ নিজ অঞ্চলের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আইসিআইসির বিভিন্ন কর্মদল তাদের চলমান কাজ, অগ্রগতি ও অর্জনের তথ্য জানায়।
ফ্রিটাউন যৌথ ঘোষণা গৃহীত হওয়াকে স্বাগত জানান আইসিআইসির সভাপতি। নাগরিকদের নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মানদণ্ড জোরদার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে ঘোষণার অঙ্গীকারগুলো বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও হয়। ২০২৮ সালের আইসিআইসি সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে কসোভোকে নির্বাচিত করা হয়। পাশাপাশি নির্বাহী কমিটিতে চারটি দেশ নির্বাচিত হয়:
- দক্ষিণ আফ্রিকা: পুনর্নির্বাচিত।
- নিউজিল্যান্ড: নির্বাচিত।
- আজারবাইজান: নির্বাচিত।
- জার্মানি: নির্বাচিত।
২০২৮ সালের সম্মেলনের আয়োজক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কসোভোও আগামী তিন বছর নির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবে।
ফ্রিটাউন সম্মেলন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কাঠামো শক্তিশালী করা এবং বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার কার্যকরভাবে চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আইসিআইসির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।